১৮ বছর পর কোটচাঁদপুর উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন কাল : তৃণমূলের দাবি নতুন নেতৃত্ব

492

এস.এম রবি,
দীর্ঘ দেড়যুগ পর আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনকে সামনে রেখে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকের মধ্যে আবার অজানা আশঙ্কা কাজ করছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা ত্যাগী নেতারা নেতৃত্ব আসুক। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সম্মেলন ছাড়া একছত্র আধিপত্য বিস্তার করা বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের স্থানে নতুন নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি বলে তৃণমূলে রব উঠেছে। বিশেষ করে সম্মেলনকে সামনে রেখে ৩ বছর মেয়াদে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শাহাজান আলী ১৮ বছর দায়িত্ব থাকার পর আবারো তিনি প্রার্থী হচ্ছেন। এই বিষয়টি নেতাকর্মীদের মাঝে বেশি আলোচিত হচ্ছে।
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ৪ই আগস্ট কোটচাঁদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় কোটচাঁদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন কালু যশোরের প্রতিথযশা সাংবাদিক শামসুর রহমান কেবল হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় প্রার্থী হতে পারেননি। ফলে নাসির উদ্দিন কালুর স্ত্রী শরিফুন্নেছা মিকিকে সভাপতি এবং কালুর দূর সম্পর্কের ভাগ্নে শাজাহান আলীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। শাহাজান আলী তার মামা কালুর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে প্রথমে সাফদারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। পরে সরাসরি তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এরপর কালু দলীয় দায়িত্বে না থাকলেও তার স্ত্রীকে ছায়া সভাপতি করে পেছন থেকে দল পরিচালনা করে আসছিলেন।
২০০৯ সালে নাসির উদ্দিন কালুর মৃত্যুর পর সভাপতি মিকিকে পুতুল সভাপতি করে রেখে একছত্র দলের নেতৃত্ব নিয়ে নেন সাধারণ সম্পাদক শহাজান আলী। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৮ বছরে উপজেলা কমিটির অনেক নেতার মৃত্যু ঘটেছে। অনেকে অসুস্থতার কারণে দলের কর্মকান্ড থেকে দূরে রয়েছেন। এই সুযোগে একক আধিপত্য কায়েম করে আছেন সাধারণ সম্পাদক শাহাজান আলী। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, গত ১৮ বছরে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে কোনো সম্মেলন হয়নি। ভেঙে পড়েছে সাংগঠনিক অবস্থান। অন্যদিকে শাহাজান আলীর ব্যক্তিগত অবস্থান ও জনপ্রিয়তা প্রায় শুন্যের কোটায় নেমে গেছে। তার প্রমাণ মিলেছে গত পৌর নির্বাচনে। ওই নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে চতুর্থ অবস্থান পান এবং জামানত হারান । শুধু তাই নয় তার মামা সাফদারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নওশের আলী নাসির ও দোড়া ইউনিয়নের সভাপতি শাজাহান আলীর চাচা শ্বশুর কাবিল উদ্দিন বিশ্বাস স্ব-স্ব ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এ বিষয়ে কথা হয় কুশনা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের সাথে। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ২০০৪ সালে উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর আর কোনো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। সেই বিচারে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। তিনি মনে করেন নতুন নেতৃত্ব দলের কর্মকান্ডকে গতিশীল করবে। সাফদারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ খালিদ হোসেন জানান, দীর্ঘদিন একক নেতৃত্বের কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। এতদিন কোটচাঁদপুর আওয়ামী লীগ অনেকটা একক নেতৃত্বে চলেছে। তিনি জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে সম্মেলনের মাধ্যম্যে নতুন নেতৃত্বের দাবি রাখেন।
গত ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত কোটচাঁদপুর পৌর আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি কাজী আলমগীর বলেন, দীর্ঘদিন পর সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পৌর কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছি। একই ভাবে তিনি উপজেলা কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনের পক্ষে মতামত প্রদান করেন। বর্তমান কমিটির সভাপতি ও কোটচাঁদপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুন্নেছা মিকি জানান, তিনি দীর্ঘদিন এই পদে আছেন। ২০০৪ সালের পর ২০১৭ সালে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই কমিটির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করেন। তিনি বলেন তিনি গত ১৮ বছর দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মাঠে আছেন। আগামী ১৯ মার্চ তাকে বা অন্য যে কোনো ব্যক্তিকে দলের দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি এক সাথে কাজ করবেন। সম্মেলন ও বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে কথা হলে কোটচাঁদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাজান আলী জানান, ২০০৪ সালের কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ২০১৭ সালে। এরপর নানান কারণে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন তিনি দলের সকল নেতাকর্মীর সাথে নিয়ে গত ১৮ বছর কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিটি দলীয় প্রোগ্রামে সফল নেতাকর্মীর উপস্থিতি সেটাই প্রমাণ করেছে। এ ছাড়া দৃশ্যত তার উপজেলায় কোন গ্রুপিং লবিং নেই বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে পৌর নির্বাচনে তার পরাজয় একটি মহলের ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও তিনি দাবি করেন। আগামীকালের সম্মেলনে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যে পন্থায় হোক যাদের নেতা নির্বাচন করবেন, তিনি সেটাই মেনে নেবেন বলে জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here